

“শরিয়ত হলো বিধান এবং তরিকত হলো তদনুসারে আমল করা।”

“যারা গাউসিয়া কমিটির খেদমত যথাযথভাবে করবে,তারা অলি আল্লাহ্ হয়ে কবরে যাবে |”

“যেখানে ইসলাম আছে কিন্তু রুহানিয়াত তথা আধ্যাত্মিকতা নেই নিরাপত্তা নেই, সেখানে ভালোবাসা নেই, শান্তি নেই।”
আওলাদে রসূল, গাউসে যামান, হযরতুলহাজ্ব আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ রহমাতুল্লাহি তাআলা আলায়হির চিন্তাধারা ছিল সুন্নিয়তের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত সুদূর প্রসারী। আর প্রকাশনা হলো কোন আদর্শকে দীর্ঘ ও গ্রহণযোগ্যতা প্রদানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ১৯৭৬ এর ১৬ ডিসেম্বর তিনি বাংলা ভাষায় সুন্নিয়াত ভিত্তিক সাহিত্য প্রকাশনার উপর গুরুত্বারোপ করে মাসিক ‘তরজুমান এ আহলে সুন্নাত’ প্রকাশের নির্দেশ দেন এবং ১৯৭৭ জানুয়ারি থেকে আনজুমান ট্রাস্ট কর্তৃক এ প্রকাশনার যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে নিবন্ধন লাভের পর অদ্যাবধি সুন্নিয়তের শীর্ষস্থানীয় মাসিক প্রকাশনার ক্ষেত্রে এখনো প্রধান এবং প্রাচীনতম স্থানটি দখল করে আছে। বর্তমানে এটা সুন্নিদের নিয়মিত এবং সর্বজনীন প্রকাশনার ক্ষেত্রে প্রধান অবলম্বন হয়ে আছে।
আরও দেখুন.....গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ একটি সমাজ সংস্কার মূলক অরাজনৈতিক আন্দোলন। সমাজ সংস্কারের পূর্বশর্ত হলো ব্যক্তি সংস্কারমূলক পদক্ষেপ; অর্থাৎ যারা এই সমাজ সংস্কারে নেতৃত্ব দেবে প্রথমে তাদের আত্মশুদ্ধি নিশ্চিতকরণ। এজন্যে গাউসিয়া কমিটির পরিকল্পনা হলো- ১. গাউসুল আ’যম জিলানী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু’র সিল্সিলাহর কামিল প্রতিনিধির হাতে বায়’আত ও সবক গ্রহণের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির এ পাঠশালায় অন্তর্ভুক্তকরণ। ২. গাউসিয়া কমিটির সদস্য বানিয়ে তাদেরকে এমন প্রশিক্ষণ দেওয়া, যাতে তারা ধীরে ধীরে আমিত্ব, হিংসা বিদ্বেষ, লোভ-লালসা ও অহঙ্কারমুক্ত পরিচ্ছন্ন মানুষ হিসেবে পরিণত হয়। ৩. সুন্নীয়তের আক্বীদা এবং ভ্রান্ত মতবাদ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির সাথে সাথে উভয় বিষয়ে প্রয়োজনীয় মৌলিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে নেতৃত্বের উপযোগী কর্মি হিসেবে গড়ে তোলা। ৪. সুন্নীয়ত ও ত্বরীকতের দায়িত্ব পালনে, বিশেষতঃ মাদরাসা, আনজুমান এবং মুর্শিদে বরহক্বের নির্দেশের প্রতি আস্থাশীল এবং মুর্শিদের বাতলানো পথে নিবেদিত হয়ে নবী প্রেমিক এবং খোদাপ্রাপ্তির পথ সুগম করার অনুশীলনে নিরলসভাবে এগিয়ে চলার শপথ গ্রহণ করা।
আরও দেখুন.....২০০৯ ইংরেজিতে হুযূর ক্বেবলার সুযোগ্য উত্তরসূরী পীরে ত্বরীক্বত, রওনকে আহলে সুন্নাত হযরতুল আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ্ সাহেব ক্বেবলা দামাত বরকাতুহুমুল আলিয়া বাংলাদেশ সফরকালে ‘আলমগীর খানক্বাহ্’ শরীফে এক ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে এ বরকতময় কর্মসূচী ঘোষণা করেছিলেন। আলহামদুলিল্লাহ্। তাঁরই নির্দেশিত নিয়মে গাউসিয়া কমিটি এ কর্মসূচী বাস্তবায়নের পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে এবং সাফল্যের সাথে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
‘দাওয়াত-ই খায়র’-এর জন্য বের হওয়া ও প্রদক্ষিণ করার গুরুত্ব অপরিসীম। এটা আরবী ‘আমর বিল মা’রূফ নাহী আনিল মুন্কার’ (সৎকাজের নির্দেশ দান ও অসৎকাজে বাধা প্রদান’-এর প্রতিশব্দ। ইসলামের প্রকৃত শিক্ষাকে মানুষের দোর গোড়ায় পৌঁছিয়ে দিয়ে তা হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার একটি অতীব বরকতময় পন্থা। পবিত্র ক্বোরআনে এর নির্দেশ বিভিন্নভাবে দেওয়া হয়েছে। বিশ্বনবী হুযূর-ই আক্রাম বাস্তবে এ বরকতময় কাজটি নিজেও করেছেন, সাহাবা-ই কেরামের মাধ্যমেও করিয়েছেন এবং বহু হাদীস শরীফে বিশ্ব মুসলিমকে এ জন্য তাকীদ দিয়েছেন ও উৎসাহিত করেছেন। বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম জাতি হিসেবে মুসলমানদেরকে ঘোষণা করে তাদের অন্যতম প্রশংসিত কাজ ও বৈশিষ্ট্য নির্দ্ধারণ করেছেন তাঁদের সৎকাজের নির্দেশ ও অসৎকাজে বাধাদানকে।
আরও দেখুন.....আনজুমান অর্থ সমাজ, রহমানিয়া নামটি হযরত আবদুর রহমান চৌহরভী (র.আ.)-এর নাম থেকে নেওয়া হয়েছে, আহমদিয়া নামটি হযরত সৈয়দ আহমদ শাহ (র.আ.)-এর নাম থেকে নেওয়া হয়েছে, আর সুন্নিয়া নামটি সুন্নিয়তের পরিচয় হিসেবে নেওয়া হয়েছে এবং ট্রাস্ট হল কল্যাণের প্রতীক।
এই সংগঠনের নিবন্ধিত কার্যালয় জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ভবন, পশ্চিম ষোলশহর, চট্টগ্রাম এবং প্রধান কার্যালয় ৩২১, দিদার মার্কেট, দেওয়ান বাজার, চট্টগ্রাম।
মুসলিম মাজহাব ও মিল্লাতের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১৫ ফেব্রুয়ারী, ১৯২৫ সালে রেঙ্গুনে (বার্মা) আনজুমান–এ-শুরা-ই-রহমানিয়া প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে, ২৯শে আগস্ট ১৯৩৭ সালে চট্টগ্রামে হুজুর কেবলা সৈয়দ আহমদ শাহের উপস্থিতিতে রেঙ্গুন থেকে ফিরে আসা শিষ্যরা পাকিস্তানের হরিপুরের দারুল উলুম ইসলামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসার পরিচালনা ও পরিচালনার জন্য এটি পুনর্গঠিত হয়।
১৯৫৪ সালের ২২ জানুয়ারী এটি সংস্কার করা হয় এবং চট্টগ্রাম এবং দেশের অন্যান্য স্থানে নতুন ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান/মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার জন্য আনজুমানে আহমদিয়া সুন্নিয়া নামকরণ করা হয়, যার কার্যালয় ছিল ৩৯ আন্দরকিল্লা, চট্টগ্রাম।
পরবর্তীকালে ১৮ মার্চ ১৯৫৬ সালে আনজুমানে আহমদিয়া সুন্নিয়াকে অরাজনৈতিক, ধর্মীয় এবং জনহিতকর সংগঠন হিসেবে আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া হিসাবে পুনর্গঠিত করা হয়, যা দেশের সুন্নি মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং বিশ্বাসযোগ্য ধর্মীয় প্ল্যাটফর্মগুলির মধ্যে একটি হয়ে ওঠে, যা উপমহাদেশের মুসলিম উম্মাহর পাশাপাশি বিশ্বের দ্বারা যথাযথভাবে স্বীকৃত।
আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট ১৮৬০ সালের রেজিস্ট্রেশন অফ সোসাইটিজ অ্যাক্ট XXI এর অধীনে যথাযথভাবে নিবন্ধিত হয়েছিল, যার রেজিস্ট্রেশন নং ১২৩৭ ই.পি. / ৮২ সালের ১৯৫৮-৫৯ (সিএইচএস- ১২৩৭) ছিল।
অর্থ মন্ত্রণালয় (রাজস্ব বিভাগ) কর্তৃক প্রজ্ঞাপন নং এস.আর.ও. ৩৮৩ (কে) তারিখ ০৪.৪.৬০ এর অধীনে আয়কর প্রদান থেকে কর অব্যাহতি সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছিল।


‘দা’ওয়াতে খায়ের’ – ২০ই সফর ১৪৪৭ হিজরি
আলোচিত বিষয়:-
রিয়া ও ইসলাম কুরআন ও হাদীসের আলোকে।
বিষয়: সূরা ফাতিহা (মাশক) এবং মুসাফিরের দোয়া।
আলোচক: ড. এ.টি.এম. লিয়াকত আলী
উপাচার্য, জামিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা।
মাওলানা মুহাম্মদ ইমরান হাসান কাদেরী, দপ্তর সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় মুয়াল্লিম, দা’ওয়াত-ই-খায়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়।
স্থানঃ আলমগীর খানকা-ই-কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া,
চট্টগ্রাম |
|
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||

